Testicular Cancer

অণ্ডকোষে গোঁটা বা ফোলা কি ক্যান্সার? অবহেলা করার আগে জানুন লক্ষণ ও প্রতিকার

অণ্ডকোষের ক্যান্সারের লক্ষণ, অণ্ডকোষে গোঁটা বা ফোলা, আল্ট্রাসনোগ্রাফি পরীক্ষা এবং আধুনিক চিকিৎসা সম্পর্কে বাংলা সচেতনতামূলক ইনফোগ্রাফিক

অণ্ডকোষের ক্যান্সার (Testicular Cancer) হলো পুরুষের অণ্ডকোষ বা টেস্টিকল-এর কোষ থেকে উৎপন্ন একটি ম্যালিগন্যান্ট টিউমার। এটি সাধারণত ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী পুরুষদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। অণ্ডকোষে ব্যথাহীন গোঁটা, ফোলা বা ভারী ভাব এর প্রাথমিক লক্ষণ। সঠিক সময়ে শনাক্ত হলে এবং আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে এই ক্যান্সার প্রায় ১০০ শতাংশ ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিরাময় করা সম্ভব।

অণ্ডকোষের ক্যান্সার কী?

অণ্ডকোষ বা টেস্টিকল হলো পুরুষের প্রজননতন্ত্রের একটি অংশ যা পেনিসের নিচে একটি থলিতে (স্ক্রোটাম) থাকে। এর প্রধান কাজ হলো শুক্রাণু (Sperm) এবং পুরুষ হরমোন (Testosterone) তৈরি করা।

যখন অণ্ডকোষের ভেতরের কোষগুলো (বিশেষ করে জার্ম সেল) অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে, তখন তাকে অণ্ডকোষের ক্যান্সার বা Testicular Cancer বলা হয়। ক্যান্সার সাধারণত একটি অণ্ডকোষে হয়, তবে কিছু ক্ষেত্রে দুটিও আক্রান্ত হতে পারে। আশার কথা হলো, এটি ক্যান্সারের সকল প্রকারভেদের মধ্যে অন্যতম সফলভাবে নিরাময়যোগ্য রোগ।

অণ্ডকোষের ক্যান্সার কতটা সাধারণ?

বিশ্বব্যাপী ক্যান্সারের তুলনায় এটি খুব সাধারণ নয় (মাত্র ১% ক্যান্সার অণ্ডকোষে হয়)। তবে ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী তরুণ ও যুবক পুরুষদের মধ্যে এটি সবচেয়ে সাধারণ ক্যান্সার। বাংলাদেশে অনেক ক্ষেত্রে লোকলজ্জার ভয়ে রোগীরা চিকিৎসকের কাছে দেরিতে আসেন, যা ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

অণ্ডকোষের ক্যান্সারের ধরন

অণ্ডকোষের ক্যান্সার মূলত কোন কোষ থেকে উৎপন্ন হচ্ছে তার ওপর ভিত্তি করে কয়েক ভাগে ভাগ করা হয়। এর মধ্যে ৯০ শতাংশের বেশি হলো Germ Cell Tumor

ধরনের নামবৈশিষ্ট্যবিস্তারের গতি
Seminoma (সেমিনোমা)সাধারণত বয়স্কদের হয়, ধীরে বাড়ে।ধীরগতিসম্পন্ন
Non-Seminomaতরুণদের বেশি হয়, দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।দ্রুতগতিসম্পন্ন
Embryonal Carcinomaএটি নন-সেমিনোমার একটি অংশ, খুব আক্রমণাত্মক।খুব দ্রুত
Teratomaবিভিন্ন ধরনের টিস্যু দিয়ে গঠিত।মাঝারি
Choriocarcinomaএটি খুব বিরল এবং দ্রুত রক্তে ছড়িয়ে পড়ে।অত্যন্ত দ্রুত

অণ্ডকোষের ক্যান্সার কেন হয়? (Risk Factors)

সুনির্দিষ্ট কারণ অজানা থাকলেও কিছু বিষয় ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়:

  • Cryptorchidism (অণ্ডকোষ নিচে না নামা): জন্মের আগে অণ্ডকোষ পেট থেকে থলিতে নেমে আসে। যদি কোনো কারণে এটি না নামে, তবে ক্যান্সারের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

  • পারিবারিক ইতিহাস: বাবা বা ভাইয়ের এই ক্যান্সার থাকলে ঝুঁকি থাকে।

  • পূর্বের ইতিহাস: এক অণ্ডকোষে ক্যান্সার হলে অন্যটিতে হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

  • বন্ধ্যাত্ব (Infertility): গবেষণায় দেখা গেছে বন্ধ্যা পুরুষদের মধ্যে এর প্রবণতা কিছুটা বেশি।

অণ্ডকোষের ক্যান্সারের লক্ষণ

অণ্ডকোষের ক্যান্সারের লক্ষণগুলো শুরুতে খুব সামান্য মনে হতে পারে।

  1. অণ্ডকোষে গোঁটা বা শক্ত দলা: সাধারণত কোনো ব্যথা থাকে না।

  2. অণ্ডকোষে ফোলা: হঠাৎ করে অণ্ডকোষ বড় হয়ে যাওয়া।

  3. ভারী অনুভূতি: অণ্ডকোষের থলি নিচে ঝুলে পড়া বা ভার ভার লাগা।

  4. অস্বস্তি: তলপেটে বা কুঁচকিতে হালকা ব্যথা।

  5. স্তন বড় হওয়া (Gynecomastia): কিছু টিউমার হরমোন নিঃসরণ করে যা পুরুষদের স্তন বড় করে দিতে পারে।

  6. পিঠে ব্যথা: ক্যান্সার যদি পেটের পেছনের লিম্ফ নোডে ছড়িয়ে পড়ে।

⚠️ বিশেষ সতর্কবার্তা: অণ্ডকোষে নতুন কোনো গোঁটা বা ফোলা অনুভব করলে লজ্জা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। মনে রাখবেন, ক্যান্সার শুরুতে ধরা পড়লে জীবন বাঁচানো সম্ভব।

অণ্ডকোষে গোঁটা মানেই কি ক্যান্সার?

সব ফোলা বা গোঁটা ক্যান্সার নয়। নিচে একটি তুলনামূলক ছক দেওয়া হলো:

অবস্থাক্যান্সার?লক্ষণ
Hydroceleনাপানি জমা, নরম ফোলা।
Varicoceleনারক্তনালী ফুলে যাওয়া (কেঁচোর মতো লাগে)।
Infectionনাখুব বেশি ব্যথা এবং লাল হয়ে যাওয়া।
Testicular Cancerহ্যাঁসাধারণত ব্যথাহীন এবং শক্ত গোঁটা।

নিজে কীভাবে অণ্ডকোষ পরীক্ষা করবেন?

প্রতি মাসে একবার গোসলের সময় নিজের অণ্ডকোষ পরীক্ষা করা উচিত।

  1. প্রতিটি অণ্ডকোষ আলাদাভাবে বৃদ্ধাঙ্গুলি এবং অন্য আঙ্গুলের সাহায্যে আলতো করে ঘোরান।

  2. দেখুন কোনো শক্ত গোঁটা বা অসমান কিছু অনুভূত হচ্ছে কি না।

  3. স্বাভাবিকভাবেই একটি অণ্ডকোষ অন্যটির চেয়ে সামান্য বড় বা নিচে থাকতে পারে, এতে ভয়ের কিছু নেই।

  4. যদি নতুন কোনো শক্ত অংশ অনুভব করেন, তবে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

 

কীভাবে রোগ নির্ণয় করা হয়? (Diagnosis)

ডাক্তার প্রথমে শারীরিক পরীক্ষা করবেন। এরপর নিশ্চিত হতে নিচের পরীক্ষাগুলো দেওয়া হয়:

  1. Scrotal Ultrasound: এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। এর মাধ্যমে বোঝা যায় ফোলাটি কি পানির নাকি শক্ত টিউমারের।

  2. Tumor Markers (Blood Test): এটি অত্যন্ত জরুরি।

  3. CT Scan: ক্যান্সার শরীরের অন্য কোথাও (ফুসফুস বা পেটে) ছড়িয়েছে কি না তা দেখার জন্য।

সতর্কতা: অণ্ডকোষের ক্যান্সারের ক্ষেত্রে সরাসরি বায়োপসি (সুঁই দিয়ে টিস্যু নেওয়া) করা নিষিদ্ধ, কারণ এতে ক্যান্সার কোষ ছড়িয়ে পড়তে পারে। অপারেশন করে অণ্ডকোষ বের করার পরই বায়োপসি করা হয়।

টিউমার মার্কার (AFP, hCG, LDH) কী?

অণ্ডকোষের ক্যান্সার কোষ কিছু বিশেষ প্রোটিন রক্তে নিঃসরণ করে।

  • AFP (Alpha-Fetoprotein): এটি নন-সেমিনোমা ক্যান্সারে বাড়ে।

  • Beta-hCG: সেমিনোমা এবং নন-সেমিনোমা উভয় ক্ষেত্রেই বাড়তে পারে।

  • LDH (Lactate Dehydrogenase): টিউমার কতটা সক্রিয় তা নির্দেশ করে।
    চিকিৎসা সফল হচ্ছে কি না তা বোঝার জন্য এই টেস্টগুলো বারবার করা হয়।

অণ্ডকোষের ক্যান্সারের স্টেজ (Stages)

  • Stage I: ক্যান্সার শুধুমাত্র অণ্ডকোষের ভেতর সীমাবদ্ধ।

  • Stage II: পেটের লিম্ফ নোডে (Retroperitoneal nodes) ছড়িয়েছে।

  • Stage III: ফুসফুস, লিভার বা শরীরের দূরবর্তী কোনো অংশে ছড়িয়েছে।

অণ্ডকোষের ক্যান্সারের আধুনিক চিকিৎসা

  • অণ্ডকোষের ক্যান্সারের চিকিৎসায় ৩টি মূল পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়:

    ক. সার্জারি (Orchiectomy)

    এটি প্রথম ধাপ। আক্রান্ত অণ্ডকোষটি কুঁচকির (Inguinal) মাধ্যমে কেটে বের করা হয়। একটি অণ্ডকোষ ফেলে দিলেও যৌনজীবন বা সন্তান ধারণে সাধারণত সমস্যা হয় না।

    খ. কেমোথেরাপি (Chemotherapy)

    ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়লে বা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকলে কেমোথেরাপি দেওয়া হয়। সাধারণত BEP Regimen (Bleomycin, Etoposide, Cisplatin) দেওয়া হয়।

    গ. রেডিওথেরাপি (Radiotherapy)

    সেমিনোমা জাতীয় ক্যান্সারে এটি অত্যন্ত কার্যকর। উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন রঞ্জনরশ্মি দিয়ে ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করা হয়।

    ঘ. RPLND (লিম্ফ নোড ডিসেকশন)

    যদি পেটের ভেতরে বড় কোনো লিম্ফ নোড থেকে যায়, তবে জটিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তা বের করা হয়।

সন্তান ধারণ ও যৌনজীবনের ওপর প্রভাব

  • অনেকেই অণ্ডকোষের ক্যান্সার শুনলে ভাবেন তারা আর বাবা হতে পারবেন না। এটি ভুল ধারণা।

    • Sperm Banking: কেমোথেরাপি বা সার্জারির আগে শুক্রাণু জমা (Freeze) করে রাখা ভালো।

    • Fertility: একটি সুস্থ অণ্ডকোষ থাকলে সন্তান হওয়া সম্ভব।

    • যৌনক্ষমতা: টেস্টোস্টেরন হরমোন যদি কমে যায়, তবে সাপ্লিমেন্ট নিয়ে স্বাভাবিক জীবন কাটানো সম্ভব।

চিকিৎসার পর ফলো-আপ

  • ক্যান্সার মুক্ত হওয়ার পরও নিয়মিত চেকআপ জরুরি।

    • প্রথম বছর: প্রতি ২ মাস অন্তর রক্ত পরীক্ষা ও টিউমার মার্কার।

    • CT Scan: ৬ মাস বা ১ বছর পর পর।

অণ্ডকোষের ক্যান্সারের চিকিৎসায় আমার ভূমিকা

অণ্ডকোষের ক্যান্সার বর্তমানে চিকিৎসাবিজ্ঞানের অন্যতম সফলভাবে নিরাময়যোগ্য ক্যান্সারগুলোর একটি। তবে এর জন্য প্রয়োজন দ্রুত রোগ নির্ণয়, সঠিক স্টেজ নির্ধারণ এবং আন্তর্জাতিক গাইডলাইন অনুযায়ী চিকিৎসা পরিকল্পনা।

আমি একজন Clinical Oncologist হিসেবে অণ্ডকোষের ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসার প্রতিটি ধাপে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকি। অস্ত্রোপচারের পর রোগের স্টেজ, টিউমার মার্কার (AFP, Beta-hCG, LDH), CT Scan রিপোর্ট এবং সামগ্রিক শারীরিক অবস্থা মূল্যায়ন করে ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করি এবং রোগের ধরন ও পর্যায় অনুযায়ী কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি, নিয়মিত ফলো-আপ এবং দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করি।

এছাড়া তরুণ রোগীদের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে সন্তান ধারণের সম্ভাবনা, Sperm Banking, যৌনস্বাস্থ্য এবং জীবনমান সংরক্ষণের বিষয়গুলোও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করি। আমার লক্ষ্য শুধু ক্যান্সারের চিকিৎসা নয়, বরং রোগীকে সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি সুস্থ জীবনের পথে সহায়তা করা।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

১. অণ্ডকোষে গোঁটা মানেই কি ক্যান্সার?
না, এটি ইনফেকশন বা পানি জমাও হতে পারে। তবে পরীক্ষা করা জরুরি।

২. অণ্ডকোষের ক্যান্সারের প্রথম লক্ষণ কী?
ব্যথাহীন শক্ত গোঁটা বা চাকা।

৩. এটি কি বংশগত?
হ্যাঁ, ৫-১০% ক্ষেত্রে বংশগত হতে পারে।

৪. একটি অণ্ডকোষ নিয়ে কি যৌনজীবন সম্ভব?
হ্যাঁ, সম্পূর্ণ স্বাভাবিক জীবন সম্ভব।

৫. সন্তান হতে সমস্যা হয় কি?
সাধারণত হয় না, তবে কেমোথেরাপির আগে স্পার্ম ব্যাংকিং করা নিরাপদ।

৬. অণ্ডকোষের ক্যান্সার কি সংক্রামক?
না, এটি ছোঁয়াচে নয়।

৭. অপারেশনের কতদিন পর স্বাভাবিক কাজে ফেরা যায়?
সাধারণত ২-৪ সপ্তাহ পর।

৮. কেমোথেরাপির প্রধান পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কী?
চুল পড়া, ক্লান্তি এবং বমি ভাব। এগুলো চিকিৎসা শেষে ঠিক হয়ে যায়।

৯. অণ্ডকোষ নিচে না নামলে কি অপারেশন জরুরি?
হ্যাঁ, ছোটবেলায় এটি নামিয়ে আনা উচিত।

১০. সেমিনোমা কি বেশি ক্ষতিকর?
না, সেমিনোমা চিকিৎসায় খুব দ্রুত সারে।

১১. অণ্ডকোষের ক্যান্সারের খরচ কেমন?
সরকারি হাসপাতালে খরচ খুবই কম, বেসরকারি পর্যায়ে প্যাকেজ অনুযায়ী ভিন্ন হয়।

১২. কেমোথেরাপির পর চুল কি আবার গজায়?
হ্যাঁ, পুরোপুরি গজায়।

১৩. অণ্ডকোষে ব্যথা থাকলে কি ক্যান্সার হয়?
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ক্যান্সারে ব্যথা হয় না, তবে কিছু ক্ষেত্রে হতে পারে।

১৪. ভারী জিনিস তুললে কি অণ্ডকোষের ক্যান্সার হয়?
না, তবে হার্নিয়া হতে পারে।

১৫. টাইট প্যান্ট পরলে কি ক্যান্সার হয়?
এর কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

১৬. অণ্ডকোষের ক্যান্সার কি লিভারে ছড়ায়?
হ্যাঁ, শেষ পর্যায়ে ছড়াতে পারে।

১৭. বায়োপসি কেন করা হয় না?
কারণ বায়োপসি করলে ক্যান্সার কোষ অণ্ডকোষের থলিতে ছড়িয়ে পড়ার ভয় থাকে।

১৮. হরমোন থেরাপি কি প্রয়োজন?
যদি দুই অণ্ডকোষই ফেলে দিতে হয়, তবে প্রয়োজন।

১৯. প্রস্রাবে রক্ত আসলে কি অণ্ডকোষের ক্যান্সার?
না, এটি সাধারণত কিডনি ক্যান্সার বা মূত্রথলীর ক্যান্সার-এর লক্ষণ।

২০. বিবাহিত জীবনে কি প্রভাব পড়ে?
সঠিক চিকিৎসায় বিবাহিত জীবনে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়ে না।

২১. অণ্ডকোষে আঘাত পেলে কি ক্যান্সার হয়?
আঘাতের কারণে ক্যান্সার হয় না, তবে আঘাতের কারণে পরীক্ষা করতে গিয়ে টিউমার ধরা পড়তে পারে।

২২. বয়স্কদের কি এটি হতে পারে?
হতে পারে, তবে এটি মূলত তরুণদের রোগ।

২৩. লিম্ফ নোড অপারেশন কি জটিল?
হ্যাঁ, তবে দক্ষ সার্জন দ্বারা করলে ঝুঁকি কম।

২৪. অণ্ডকোষের ক্যান্সার কি পুরোপুরি সারে?
হ্যাঁ, ৯৫-৯৯% ক্ষেত্রে এটি পুরোপুরি সারে।

২৫. স্পার্ম ব্যাংক বাংলাদেশে কোথায় আছে?
কিছু সরকারি ও বেসরকারি ফার্টিলিটি সেন্টারে এই সুবিধা আছে।

২৬. খাদ্যাভ্যাসের সাথে কি এর সম্পর্ক আছে?
সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই, তবে স্বাস্থ্যকর খাবার শরীরের ইমিউনিটি বাড়ায়।

২৭. মদ্যপান কি ঝুঁকি বাড়ায়?
অতিরিক্ত মদ্যপান শরীরের যে কোনো ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

২৮. অণ্ডকোষ ছোট হয়ে যাওয়া কি ক্যান্সারের লক্ষণ?
সাধারণত টিউমার হলে বড় হয়, তবে ছোট হওয়া হরমোন সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।

২৯. কেমোথেরাপি কতবার নিতে হয়?
সাধারণত ৩ থেকে ৪টি সাইকেল প্রয়োজন হয়।

৩০. অণ্ডকোষের কৃত্রিম প্রোস্থেসিস কি লাগানো যায়?
হ্যাঁ, কসমেটিক কারণে সিলিকন প্রোস্থেসিস লাগানো সম্ভব।

শেষকথা

অণ্ডকোষের ক্যান্সার (Testicular Cancer) নিয়ে ভয়ের চেয়ে সচেতনতা বেশি জরুরি। তরুণদের মধ্যে এই রোগটি বেশি হওয়ায় এটি নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা করা প্রয়োজন। যদি আপনার বা আপনার পরিচিত কারো অণ্ডকোষে কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন বা গোঁটা নজরে আসে, তবে অবহেলা না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। মনে রাখবেন, আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় এই ক্যান্সারকে জয় করা সম্ভব।

## পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করুন

আপনার বা আপনার পরিবারের কারো ক্যান্সার চিকিৎসা নিয়ে প্রশ্ন থাকলে দেরি না করে যোগাযোগ করুন।