Targeted Therapy

টার্গেটেড থেরাপি : ক্যান্সার চিকিৎসায় আধুনিক লক্ষ্যভিত্তিক চিকিৎসা

টার্গেটেড থেরাপি নিয়ে বাংলা মেডিকেল awareness poster যেখানে targeted cancer cell illustration দেখানো হয়েছে

বর্তমানে ক্যান্সার চিকিৎসায় “টার্গেটেড থেরাপি”  (Targeted Therapy) শব্দটি অনেক বেশি শোনা যাচ্ছে। অনেক রোগী ও তাদের স্বজন জানতে চান — এটি কি কেমোথেরাপির মতো? এটি কি ক্যান্সার পুরোপুরি ভালো করে দেয়?

আধুনিক ক্যান্সার চিকিৎসায় টার্গেটেড থেরাপি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। কারণ সব ক্যান্সার এক ধরনের নয়, তাই সব রোগীর চিকিৎসাও এক রকম হয় না। কিছু ক্যান্সারে বিশেষ ধরনের পরিবর্তন বা mutation থাকে। টার্গেটেড থেরাপি সেই নির্দিষ্ট পরিবর্তনকে লক্ষ্য করে কাজ করার চেষ্টা করে। এজন্য একে “লক্ষ্যভিত্তিক চিকিৎসা” বলা হয়।

টার্গেটেড থেরাপি কী?

আমাদের শরীরের ক্যান্সার কোষে অনেক সময় কিছু বিশেষ প্রোটিন বা জিনের পরিবর্তন তৈরি হয়, যা ক্যান্সারকে দ্রুত বাড়তে সাহায্য করে।

টার্গেটেড থেরাপি এমন ওষুধ যা ক্যান্সার কোষের সেই নির্দিষ্ট পরিবর্তন বা টার্গেট-এর বিরুদ্ধে কাজ করে।

সহজভাবে বলা যায়:

👉 কেমোথেরাপি অনেক কোষের উপর একসাথে কাজ করে
👉 কিন্তু টার্গেটেড থেরাপি নির্দিষ্ট ক্যান্সার কোষকে “চিহ্নিত” করে আক্রমণ করার চেষ্টা করে

এ কারণে অনেক ক্ষেত্রে স্বাভাবিক কোষ তুলনামূলক কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে।

কেমোথেরাপি ও টার্গেটেড থেরাপির পার্থক্য

কেমোথেরাপি

কেমোথেরাপি দ্রুত বিভাজিত হওয়া কোষের বিরুদ্ধে কাজ করে। ফলে ক্যান্সার কোষের পাশাপাশি কিছু স্বাভাবিক কোষও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তাই অনেক সময় :

  • চুল পড়ে যাওয়া
  • বমি
  • দুর্বলতা
  • পাতলা পায়খানা
  • রক্ত কমে যাওয়া , এই সমস্যাগুলো দেখা যায়।

টার্গেটেড থেরাপি

অপরদিকে টার্গেটেড থেরাপি ক্যান্সারের নির্দিষ্ট টার্গেট-এর বিরুদ্ধে কাজ করে। তাই স্বাভাবিক কোষের উপর প্রতিক্রিয়া কম দেখা যায়।

তবে মনে রাখতে হবে:
❗ সব রোগীর জন্য টার্গেটেড থেরাপি কাজ করে না
❗ টার্গেট মিউটেশন থাকলে তবেই এই চিকিৎসা কার্যকর হতে পারে

.

কোন কোন ক্যান্সারে ব্যবহার হয়?

বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারে টার্গেটেড থেরাপি ব্যবহার করা হচ্ছে।

স্তন ক্যান্সার

HER2-positive breast cancer-এ টার্গেটেড থেরাপি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ফুসফুস ক্যান্সার

EGFR, ALK বা ROS1 mutation থাকলে বিশেষ টার্গেটেড চিকিৎসা ব্যবহার করা হয় এবং ভাল ফল পাওয়া যায়।

কোলোরেক্টাল ক্যান্সার

কিছু advanced  রোগীর ক্ষেত্রে টার্গেটেড থেরাপি ব্যবহার করা হয়।

ওভারিয়ান ক্যান্সার

BRCA mutation থাকলে ব্যবহার করা হয়।

কিডনী ক্যান্সার

কিডনি ক্যান্সারের কিছু রোগীর ক্ষেত্রে টার্গেটেড থেরাপি দীর্ঘমেয়াদে রোগ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে।

 

Target / Biomarker Test কেন প্রয়োজন?

সব টার্গেটেড থেরাপি সব রোগীর জন্য কাজ করে না। এজন্য চিকিৎসা শুরু করার আগে অনেক সময় বিশেষ পরীক্ষা প্রয়োজন হয়। এগুলোকে biomarker test বলা হয়।

যেমন

HER2 

Breast cancer-এর কিছু রোগীর ক্ষেত্রে HER2 বেশি থাকে।

EGFR

Lung cancer-এ গুরুত্বপূর্ণ mutation।

ALK / ROS1

কিছু বিশেষ ধরনের lung cancer-এ দেখা যায়।

BRCA

Breast ও ovarian cancer-এ গুরুত্বপূর্ণ genetic change।

MSI

 কোলোরেক্টাল ক্যান্সার রোগীর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ biomarker।

এইসকল পরীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী টার্গেটেড থেরাপি নির্বাচন করা হয়।

কীভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়?

টার্গেটেড থেরাপি বিভিন্নভাবে দেওয়া হতে পারে:

  • ট্যাবলেট
  • ক্যাপসুল
  • ইঞ্জেকশন
  • শিরাপথে স্যালাইনের মাধ্যমে

কিছু ওষুধ প্রতিদিন খেতে হয়, আবার কিছু নির্দিষ্ট সময় পর ইঞ্জেকশন হিসেবে দেওয়া হয়।

চিকিৎসা কতদিন চলবে তা নির্ভর করে সাধারণত রোগের ধরন, মেডিসিনের কার্যকারিতা, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এগুলোর উপর।

 

Follow-up কেন গুরুত্বপূর্ণ?

টার্গেটেড থেরাপি চলাকালে নিয়মিত follow-up অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ:

  • ওষুধ কাজ করছে কিনা দেখতে হয়
  • পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করতে হয়
  • পুনরায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা লাগতে পারে
  • লিভার-কিডনীর কার্যকারিতা পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে

নিজে নিজে ওষুধ বন্ধ করা বা পরিবর্তন করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

সব টার্গেটেড থেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এক নয়। তবে কিছু সাধারণ সমস্যা হতে পারে:

  • চামড়ায় লাল লাল দাগ
  • পাতলা পায়খানা
  • দুর্বলতা
  • লিভারের কার্যকারিতা কমে যাওয়া
  • Blood pressure বেড়ে যাওয়া
  • মুখে ঘা

তবে সব রোগীর ক্ষেত্রে একই সমস্যা হয় না।

প্রচলিত ভুল ধারণা

❌ “এটা নিলে ক্যান্সার পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়”

সবসময় নয়। অনেক ক্ষেত্রে এটি রোগ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

❌ “এটার কোনো side effect নেই”

ভুল। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে, তবে ধরন ভিন্ন।

❌ “সব রোগীর জন্য একই ওষুধ কাজ করে”

না। টার্গেট মিউটেশন থাকলে তবেই টার্গেটেড থেরাপি কার্যকর হতে পারে।

বাংলাদেশে চিকিৎসার বাস্তবতা

বাংলাদেশেও বর্তমানে অনেক টার্গেটেড ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে। যদিও কিছু ওষুধের দাম তুলনামূলক বেশি হতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো:
✅ সঠিক diagnosis
✅ সঠিক biomarker test
✅ অভিজ্ঞ oncologist-এর পরামর্শ

❗Internet বা অন্যের কথা শুনে নিজে নিজে টার্গেটেড মেডিসিন শুরু করা উচিত নয়।

শেষকথা

টার্গেটেড থেরাপি ক্যান্সারের আধুনিক চিকিৎসায় বড় পরিবর্তন এনেছে। তবে এটি সব রোগীর জন্য এক নয়। সঠিক পরীক্ষা, সঠিক রোগী নির্বাচন এবং সময়মতো চিকিৎসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সচেতনতা, নিয়মিত follow-up এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ক্যান্সার চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

## পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করুন

আপনার বা আপনার পরিবারের কারো ক্যান্সার চিকিৎসা নিয়ে প্রশ্ন থাকলে দেরি না করে যোগাযোগ করুন।