১. কেমোথেরাপি কী এবং কীভাবে কাজ করে?
উত্তর: কেমোথেরাপিতে বিশেষ কিছু শক্তিশালী ঔষধ ব্যবহার করে শরীরের দ্রুত বর্ধনশীল ক্যান্সার কোষগুলোকে ধ্বংস করা হয়। এই ঔষধগুলো রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি রুখে দেয়।
২. ক্যান্সার চিকিৎসায় কেমোথেরাপি কেন দেওয়া হয়?
উত্তর: মূলত তিনটি কারণে এটি দেওয়া হয়—অপারেশনের আগে টিউমার ছোট করতে, অপারেশনের পর বেঁচে যাওয়া অদৃশ্য ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করতে এবং ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ন্ত্রণে রেখে রোগীর কষ্ট কমাতে।
৩. কেমোথেরাপি কীভাবে দেওয়া হয়? এটি কি বেদনাদায়ক?
উত্তর: এটি সাধারণত শিরার মাধ্যমে (স্যালাইন বা ইনজেকশন) অথবা মুখে খাওয়ার ট্যাবলেটের আকারে দেওয়া হয়। কেমোথেরাপি দেওয়ার সময় সাধারণ সুঁই ফোটার অনুভূতি ছাড়া কোনো তীব্র ব্যথা হয় না।
৪. কেমোথেরাপির প্রধান পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো কী কী?
উত্তর: সাময়িক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো—অতিরিক্ত ক্লান্তি, বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া, সাময়িকভাবে চুল পড়ে যাওয়া, মুখে ঘা এবং রক্তকণিকা কমে যাওয়া।
৫. কেমোথেরাপিতে কি সবারই চুল পড়ে যায়? পরে কি আবার গজায়?
উত্তর: না, সব ঔষধের কারণে চুল পড়ে না। আর চুল পড়লেও তা সাময়িক; চিকিৎসা শেষ হওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই মাথায় আবার নতুন চুল গজাতে শুরু করে।
৬. কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো কি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব?
উত্তর: হ্যাঁ, সম্ভব। আধুনিক চিকিৎসায় বমি বা অন্যান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমানোর জন্য অত্যন্ত কার্যকর ঔষধ রয়েছে। চিকিৎসকের পরামর্শ ও সঠিক যত্নের মাধ্যমে এগুলো সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
৭. কেমোথেরাপি চলাকালীন রোগীর খাদ্যাভ্যাস কেমন হওয়া উচিত?
উত্তর: রোগীকে পর্যাপ্ত প্রোটিন (মাছ, মাংস, ডিম) ও ক্যালরিযুক্ত তাজা এবং ঘরে তৈরি সুসিদ্ধ খাবার দিতে হবে। সংক্রমণ এড়াতে কাঁচা খাবার (যেমন সালাদ) এড়িয়ে চলতে হবে এবং ফোটানো পানি পান করতে হবে।
৮. সংক্রমণ (Infection) এড়াতে কী সতর্কতা নেওয়া উচিত?
উত্তর: রোগীকে সর্বদা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, বাইরে বের হলে মাস্ক পরানো এবং লোকসমাগম এড়িয়ে চলা উচিত। চিকিৎসাকালীন হঠাৎ জ্বর আসলে বা শরীর বেশি খারাপ হলে দ্রুত চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।
৯. কেমোথেরাপির একটি কোর্স সম্পন্ন হতে কত দিন সময় লাগে?
উত্তর: কেমোথেরাপি সাধারণত ৪ থেকে ৮টি ‘সাইকেলে’ দেওয়া হয়। প্রতি সাইকেলের মাঝে ২ থেকে ৪ সপ্তাহের বিরতি থাকে। পুরো কোর্সটি শেষ হতে সাধারণত ৩ থেকে ৬ মাস সময় লাগে।
১০. কেমোথেরাপি নিয়ে মনে ভয় থাকলে করণীয় কী?
উত্তর: ভয় বা দ্বিধা থাকলে তা মনে চেপে না রেখে সরাসরি আপনার ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের (Oncologist) সাথে খোলামেলা আলোচনা করুন। সঠিক তথ্য ও সঠিক মানসিক প্রস্তুতি এই চিকিৎসার ভয়কে দূর করতে সাহায্য করে।
আরও পড়ুনঃ
রেডিওথেরাপি কি?
ইমিউনোথেরাপি কি?
হরমোন থেরাপি কি?
টার্গেটেড থেরাপি কি?