Cervical and endometrial cancer

লজ্জা নয়, জীবন বাঁচান : জরায়ুমুখ ও জরায়ুর ক্যান্সার সম্পর্কে জরুরি তথ্য

জরায়ুমুখ ও জরায়ুর ক্যান্সার নিয়ে বাংলা মেডিকেল awareness poster যেখানে uterus এবং cervix illustration দেখানো হয়েছে

বাংলাদেশে নারীদের মধ্যে জরায়ুমুখ ও জরায়ুর ক্যান্সার একটি মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা। দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, এই রোগের কারণে অনেক নারী অকালে প্রাণ হারান, কারণ তারা লোকলজ্জা, ভয় বা অসচেতনতার কারণে সময়মতো চিকিৎসকের কাছে যান না। অনেকে আবার রোগের লক্ষণগুলোকে সাধারণ সমস্যা ভেবে অবহেলা করেন। অথচ প্রাথমিক অবস্থায় এই রোগ ধরা পড়লে আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়া সম্ভব। এই লেখার মাধ্যমে আমরা এই দুটি ক্যান্সার সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করব, যাতে আমাদের মায়েরা, বোনেরা ও মেয়েরা সচেতন হতে পারেন এবং সুস্থ জীবনযাপন করতে পারেন।

জরায়ুমুখ (Cervix) ও জরায়ু (Uterus) কোথায়?

নারীদেহে প্রজননতন্ত্রের দুটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হলো জরায়ুমুখ ও জরায়ু।

  • জরায়ু (Uterus): এটি নারীদেহের তলপেটে অবস্থিত নাশপাতির আকৃতির একটি ফাঁপা অঙ্গ। এর প্রধান কাজ হলো গর্ভধারণ করা, যেখানে একটি শিশু বেড়ে ওঠে। প্রতি মাসে মাসিক চক্রের সময় এর ভেতরের আস্তরণ (lining) পরিবর্তিত হয়।

  • জরায়ুমুখ (Cervix): জরায়ুর নিচের সরু অংশটি, যা যোনির সাথে সংযুক্ত, তাকে জরায়ুমুখ (Cervix) বলে। এটি জরায়ুকে যোনির সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে এবং সন্তান জন্মদানের সময় প্রসারিত হয়।

সহজভাবে বলতে গেলে, জরায়ু হলো একটি থলির মতো অঙ্গ যেখানে শিশু বড় হয়, আর জরায়ুমুখ হলো সেই থলির মুখ বা প্রবেশপথ।

জরায়ুমুখ, জরায়ু ও ডিম্বাশয়ের বাংলা মেডিকেল infographic যেখানে female reproductive anatomy সহজভাবে দেখানো হয়েছে

জরায়ুমুখের ক্যান্সার (Cervical Cancer) কী?

জরায়ুমুখের ক্যান্সার (Cervical Cancer) হলো যখন জরায়ুমুখের কোষগুলো অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে শুরু করে এবং ক্যান্সারে পরিণত হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই ক্যান্সারের মূল কারণ হলো হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (Human Papillomavirus – HPV) নামক একটি ভাইরাস। এটি যৌন মিলনের মাধ্যমে ছড়ায়। আমাদের দেশের বেশিরভাগ জরায়ুমুখের ক্যান্সার এই HPV সংক্রমণের ফলেই হয়ে থাকে।

HPV সংক্রমণ হওয়ার সাথে সাথেই ক্যান্সার হয় না। এটি ধীরে ধীরে জরায়ুমুখের কোষগুলোতে পরিবর্তন আনে, যা বহু বছর ধরে চলে। প্রথমদিকে কোষগুলো অস্বাভাবিক হলেও ক্যান্সার থাকে না (প্রি-ক্যান্সারাস)। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করালে এই প্রি-ক্যান্সারাস কোষগুলো ক্যান্সারে রূপান্তরিত হতে পারে।

জরায়ুর ক্যান্সার / এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সার (Uterine Cancer / Endometrial Cancer) কী?

জরায়ুর ক্যান্সার বলতে সাধারণত এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সার (Endometrial Cancer) বোঝানো হয়। এটি শুরু হয় জরায়ুর ভেতরের আস্তরণ, যাকে এন্ডোমেট্রিয়াম (Endometrium) বলে, সেখানকার কোষগুলোতে। এই ক্যান্সার সাধারণত মেনোপজের (মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর) পর নারীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।

মেনোপজের পর রক্তপাত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। যদি মেনোপজের পরেও কোনো নারীর যোনিপথে রক্তপাত হয়, তবে এটিকে কখনোই স্বাভাবিক মনে করা উচিত নয় এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সাধারণ লক্ষণ

জরায়ুমুখ ও জরায়ুর ক্যান্সারের কিছু সাধারণ লক্ষণ নিচে দেওয়া হলো। এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি:

  • অনিয়মিত রক্তপাত: মাসিকের সময় ছাড়া অন্য যেকোনো সময় রক্তপাত হওয়া।

  • মেনোপজের পর রক্তপাত: মাসিক সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরেও যদি যোনিপথে রক্তপাত হয়, এটি একটি মারাত্মক লক্ষণ।

  • সহবাসের পর রক্তপাত: যৌন মিলনের পর যোনিপথে রক্তপাত হওয়া।

  • দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব: যোনিপথ থেকে অস্বাভাবিক, দুর্গন্ধযুক্ত বা রক্ত মিশ্রিত স্রাব আসা।

  • তলপেটে ব্যথা: তলপেটে বা পিঠের নিচের অংশে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা হওয়া।

  • দুর্বলতা: কারণ ছাড়াই অতিরিক্ত দুর্বল লাগা।

  • ওজন কমে যাওয়া: কারণ ছাড়াই দ্রুত ওজন কমে যাওয়া।

এটা মনে রাখা জরুরি যে, সব অনিয়মিত রক্তপাত বা তলপেটে ব্যথা ক্যান্সার নয়। তবে যদি এই লক্ষণগুলো দীর্ঘ দিন ধরে থাকে বা খারাপের দিকে যায়, তাহলে অবশ্যই পরীক্ষা করানো উচিত। লজ্জা বা ভয় না পেয়ে সঠিক সময়ে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া আপনার জীবন রক্ষা করতে পারে।

কেন হয় / ঝুঁকির কারণ

জরায়ুমুখ ও জরায়ুর ক্যান্সারের কিছু প্রধান ঝুঁকির কারণ নিচে দেওয়া হলো:

  • HPV সংক্রমণ: জরায়ুমুখের ক্যান্সারের প্রধান কারণ হলো হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (HPV) সংক্রমণ।

  • অল্প বয়সে বিয়ে ও সন্তান ধারণ: কম বয়সে বিয়ে এবং একাধিক সন্তানের জন্ম জরায়ুমুখের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।

  • একাধিক যৌন সঙ্গী: একাধিক সঙ্গীর সাথে যৌন সম্পর্ক HPV সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়।

  • ধূমপান (Smoking): ধূমপান জরায়ুমুখের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।

  • স্থুলতা (Obesity): অতিরিক্ত ওজন জরায়ুর ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।

  • ডায়াবেটিস (Diabetes): ডায়াবেটিস জরায়ুর ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

  • হরমোনের ভারসাম্যহীনতা (Hormonal Imbalance): হরমোনের অস্বাভাবিকতা জরায়ুর ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।

  • পারিবারিক ইতিহাস (Family History): পরিবারে জরায়ুমুখ বা জরায়ুর ক্যান্সারের ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি কিছুটা বাড়তে পারে।

  • মেনোপজের পরও দীর্ঘদিন রক্তপাত: মেনোপজের পর যদি দীর্ঘ দিন ধরে অস্বাভাবিক রক্তপাত হয়, তবে জরায়ুর ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। তাই মেনোপজের পরে রক্তপাতকে কখনোই স্বাভাবিক ভাবা উচিত নয়।

কীভাবে পরীক্ষা করা হয়?

রোগ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসক কিছু পরীক্ষা করার পরামর্শ দিতে পারেন:

  • প্যাপ স্মিয়ার (Pap Smear) বা প্যাপ টেস্ট: জরায়ুমুখের কোষ পরীক্ষা করার জন্য এটি একটি সহজ এবং গুরুত্বপূর্ণ স্ক্রিনিং টেস্ট। জরায়ুমুখ থেকে সামান্য কিছু কোষ সংগ্রহ করে মাইক্রোস্কোপের নিচে পরীক্ষা করা হয়। এটি প্রাথমিক অবস্থায় অস্বাভাবিক কোষ বা প্রি-ক্যান্সারাস পরিবর্তন শনাক্ত করতে পারে।

  • এইচপিভি টেস্ট (HPV Test): HPV ভাইরাস আছে কিনা তা জানার জন্য এই পরীক্ষা করা হয়।

  • কলপোস্কোপি (Colposcopy): প্যাপ স্মিয়ারে অস্বাভাবিকতা ধরা পড়লে, জরায়ুমুখকে একটি বিশেষ যন্ত্র (কলপোস্কোপ) দিয়ে বড় করে দেখা হয়।

  • বায়োপসি (Biopsy): কলপোস্কোপির সময় যদি কোনো অস্বাভাবিক অংশ দেখা যায়, তবে সেখান থেকে ছোট একটি টিস্যুর নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করা হয়। এর মাধ্যমে ক্যান্সার নিশ্চিত হয়।

  • আলট্রাসাউন্ড (Ultrasound): জরায়ু এবং ডিম্বাশয়ের অবস্থা দেখার জন্য আলট্রাসাউন্ড করা হয়। বিশেষ করে জরায়ুর ক্যান্সারের ক্ষেত্রে এটি কার্যকর।

  • এমআরআই (MRI) / সিটি স্ক্যান (CT Scan): ক্যান্সার শরীরের অন্য কোথাও ছড়িয়েছে কিনা, তা দেখার জন্য এই উন্নত স্ক্যানগুলো করা হয়।

এই পরীক্ষাগুলো কেন প্রয়োজন, তা বোঝা অত্যন্ত জরুরি। এর মাধ্যমেই রোগটি সঠিকভাবে নির্ণয় করা এবং এর বিস্তার সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়, যা সঠিক চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরিতে সাহায্য করে।

স্ক্রিনিং কেন গুরুত্বপূর্ণ?

জরায়ুমুখের ক্যান্সারের ক্ষেত্রে প্যাপ স্মিয়ার (Pap Smear) একটি জীবন রক্ষাকারী পরীক্ষা। নিয়মিত প্যাপ স্মিয়ার করানোর মাধ্যমে জরায়ুমুখের কোষের পরিবর্তন প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়ে, এমনকি ক্যান্সার হওয়ার আগেও এটি শনাক্ত করা যায়। এতে করে চিকিৎসা অনেক সহজ হয় এবং সম্পূর্ণ নিরাময়ের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

এছাড়া, HPV ভ্যাকসিন জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রতিরোধের একটি অত্যন্ত কার্যকর উপায়। অল্প বয়সে (সাধারণত ১০-১২ বছর বয়স থেকে) এই টিকা নিলে HPV সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক কমে যায়, যার ফলে জরায়ুমুখের ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনাও কমে যায়। এই ভ্যাকসিন নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।

প্রাথমিক অবস্থায় রোগ ধরা পড়লে অপারেশনের মাধ্যমে সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব হতে পারে, যা অ্যাডভান্সড স্টেজের চিকিৎসার চেয়ে অনেক সহজ ও কম জটিল।

চিকিৎসা পদ্ধতি

জরায়ুমুখ ও জরায়ুর ক্যান্সারের আধুনিক চিকিৎসায় বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, যা রোগের স্টেজ ও রোগীর অবস্থার ওপর নির্ভর করে:

  • অপারেশন (Surgery): যদি ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়ে এবং বেশি না ছড়ায়, তাহলে অপারেশনের মাধ্যমে ক্যান্সারের অংশটুকু (যেমন, জরায়ু ও জরায়ুমুখ) কেটে বাদ দেওয়া হয়।

  • কেমোথেরাপি (Chemotherapy): ঔষধের মাধ্যমে ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করা হয়। এটি সাধারণত  অ্যাডভান্সড স্টেজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

  • রেডিওথেরাপি (Radiotherapy): উচ্চশক্তির রশ্মি ব্যবহার করে ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করা হয়। জরায়ু এবং জরায়ুমুখের ক্যান্সারের চিকিৎসায় রেডিওথেরাপি একটি অন্যতম চিকিৎসা পদ্ধতি। এটি কেমোথেরাপির সাথেও দেওয়া হতে পারে।

  • ব্র্যাকিথেরাপি (Brachytherapy): এটি এক ধরনের রেডিওথেরাপি, যেখানে বিকিরণ উৎস সরাসরি বা কাছাকাছি ক্যান্সারের স্থানে স্থাপন করা হয়। জরায়ু এবং জরায়ুমুখের ক্যান্সারের চিকিৎসায় এটি খুব কার্যকর।

  • টার্গেটেড থেরাপি (Targeted Therapy): এই চিকিৎসা ক্যান্সার কোষের নির্দিষ্ট দুর্বলতাগুলোকে লক্ষ্য করে কাজ করে, যা সুস্থ কোষের ক্ষতি কমায়।

  • ইমিউনোথেরাপি (Immunotherapy): এই চিকিৎসায় রোগীর নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে ক্যান্সার কোষের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করা হয়।

  • হরমোনাল ট্রিটমেন্ট (Hormonal Treatment): জরায়ুর ক্যান্সারের কিছু ক্ষেত্রে হরমোন থেরাপি ব্যবহার করা হয়।

  • প্যালিয়েটিভ ও সাপোর্টিভ কেয়ার (Palliative & Supportive Care): রোগীর ব্যথা ও অন্যান্য কষ্ট কমানো এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত করার জন্য এই সহায়ক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

রোগ সম্পর্কে প্রচলিত ভুল ধারণা

জরায়ুমুখ ও জরায়ুর ক্যান্সার নিয়ে কিছু ভুল ধারণা সমাজে প্রচলিত আছে, যা দূর করা দরকার:

 

❌“রক্তপাত মানেই ক্যান্সার”

এটি ভুল ধারণা। মাসিকের সমস্যা, হরমোনের পরিবর্তন বা অন্যান্য কারণেও রক্তপাত হতে পারে। তবে অস্বাভাবিক বা মেনোপজের পর রক্তপাত হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

❌“বয়স হলে এসব স্বাভাবিক”

মেনোপজের পর শরীরে কিছু পরিবর্তন আসে ঠিকই, কিন্তু মেনোপজের পর রক্তপাত বা অস্বাভাবিক স্রাব কখনোই স্বাভাবিক নয়। এটি গুরুতর রোগের লক্ষণ হতে পারে

❌“ক্যান্সার হলে জরায়ু কেটে ফেললেই সব শেষ”

অপারেশন হলো একটি কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি, বিশেষ করে প্রাথমিক পর্যায়ে। এটি ক্যান্সারকে শরীর থেকে দূর করে রোগীকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।

❌“রেডিওথেরাপি খুব ভয়ংকর”

রেডিওথেরাপি একটি আধুনিক চিকিৎসা। এর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকলেও চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এটি অনেক রোগীর জীবন বাঁচায়।

❌“প্যাপ স্মিয়ার দরকার নেই”

এটি একটি মারাত্মক ভুল। প্যাপ স্মিয়ার জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলোর মধ্যে একটি। নিয়মিত স্ক্রিনিং আপনার জীবন বাঁচাতে পারে।

প্রতিরোধ ও সচেতনতা

কিছু সহজ পদক্ষেপের মাধ্যমে আমরা জরায়ুমুখ ও জরায়ুর ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে পারি:

  • HPV ভ্যাকসিন: অল্প বয়সে (সাধারণত ১০-১২ বছর বয়স থেকে) মেয়েদের HPV ভ্যাকসিন দিন। এটি জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর।

  • নিরাপদ যৌন অভ্যাস (Safe Sexual Practice): এটি HPV সংক্রমণ প্রতিরোধে সাহায্য করে।

  • ধূমপান বন্ধ করা: ধূমপান জরায়ুমুখের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়, তাই এটি পরিহার করুন।

  • নিয়মিত স্ক্রিনিং: ২৫ বছর বা এর বেশি বয়সী সকল নারীর জন্য প্রতি ৩-৫ বছর অন্তর নিয়মিত প্যাপ স্মিয়ার (Pap Smear) পরীক্ষা করানো উচিত।

  • অস্বাভাবিক রক্তপাত অবহেলা না করা: মাসিকের সময় ছাড়া রক্তপাত, সহবাসের পর রক্তপাত, বা মেনোপজের পর রক্তপাত হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

কখন দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত?

যদি নিচের লক্ষণগুলোর মধ্যে কোনোটি আপনার মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে থাকে, তবে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত:

  • মেনোপজের পর রক্তপাত

  • সহবাসের পর রক্তপাত

  • যোনিপথ থেকে দীর্ঘদিন অস্বাভাবিক বা দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব

  • তলপেটে বা পিঠের নিচের অংশে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা

  • কারণ ছাড়াই দ্রুত ওজন কমে যাওয়া

আমি কিভাবে এই চিকিৎসায় ভূমিকা রাখি?

প্রতিটি নারীর জীবন অমূল্য। জরায়ুমুখ ও জরায়ুর ক্যান্সারের মতো রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমি আপনাদের পাশে আছি। এই পথচলায় রোগ নির্ণয় (diagnosis), পর্যায় নির্ধারণ (stage evaluation) থেকে শুরু করে কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি, ব্র্যাকিথেরাপি, টার্গেটেড থেরাপি, ইমিউনোথেরাপি এবং সহায়ক যত্ন (supportive care) – প্রতিটি ধাপে আমি রোগীর পাশে থাকি। রোগীর শারীরিক অবস্থা ও রোগের স্টেজ অনুযায়ী, একটি ব্যক্তিগত এবং সার্বিক চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করা হয়, যাতে প্রতিটি নারী তার সুস্থ জীবন ফিরে পেতে পারেন এবং মানসম্মত জীবনযাপন করতে পারেন। আপনাদের বিশ্বাস ও সুস্থতাই আমার প্রধান লক্ষ্য।

শেষ কথা

জরায়ুমুখ ও জরায়ুর ক্যান্সার প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে চিকিৎসার ফল অনেক ভালো হতে পারে। তাই অস্বাভাবিক রক্তপাত বা দীর্ঘদিনের সমস্যা অবহেলা না করে দ্রুত পরীক্ষা করা জরুরি। নিয়মিত screening, সচেতনতা ও সময়মতো চিকিৎসা অনেক জীবন রক্ষা করতে পারে।

## পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করুন

আপনার বা আপনার পরিবারের কারো ক্যান্সার চিকিৎসা নিয়ে প্রশ্ন থাকলে দেরি না করে যোগাযোগ করুন।