Head and neck cancer

মুখের ঘা না কি ক্যান্সার? জানুন হেড অ্যান্ড নেক ক্যান্সারের সতর্কবার্তা

হেড অ্যান্ড নেক ক্যান্সার নিয়ে বাংলা মেডিকেল awareness poster যেখানে মুখগহ্বর, গলা ও স্বরযন্ত্রের realistic illustration দেখানো হয়েছে

বাংলাদেশ সহ বিশ্বজুড়ে হেড অ্যান্ড নেক ক্যান্সার একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য সমস্যা। আমাদের দেশে, ধূমপান এবং তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের ব্যাপকতার কারণে এই ক্যান্সারের ঝুঁকি আরও বেশি। অনেক সময় রোগীরা প্রথম দিকে লক্ষণগুলোকে সাধারণ সমস্যা মনে করে অবহেলা করেন, যার ফলে রোগ যখন অনেক দূর গড়িয়ে যায়, তখন তারা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। কিন্তু প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে হেড অ্যান্ড নেক ক্যান্সারের সফল চিকিৎসার সম্ভাবনা অনেক বেশি। এই ব্লগ পোস্টটির উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের সাধারণ মানুষকে সহজ ও পরিষ্কার ভাষায় এই ক্যান্সার সম্পর্কে সচেতন করা, যাতে তারা সময়মতো সঠিক পদক্ষেপ নিতে পারেন।

হেড অ্যান্ড নেক ক্যান্সার কী?

“হেড অ্যান্ড নেক ক্যান্সার” বলতে মাথা ও ঘাড়ের অঞ্চলে হওয়া বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারকে বোঝানো হয়। সহজ কথায়, আমাদের মুখ থেকে শুরু করে গলা পর্যন্ত যে কোনো অংশে ক্যান্সার হলে তাকে এই নামে অভিহিত করা হয়।

এই ক্যান্সার শরীরের নিম্নলিখিত অংশে হতে পারে:

  • মুখগহ্বর (Oral Cavity): জিহ্বা, ঠোঁট, মাড়ি, গালের ভেতরের অংশ, মুখের তলা এবং তালু।

  • জিহ্বা: জিহ্বার অগ্রভাগ বা পেছনের অংশে।

  • গলা (Pharynx): এটি নাক ও মুখ থেকে খাদ্যনালী ও শ্বাসনালী পর্যন্ত বিস্তৃত। এর তিনটি অংশ আছে – নাসিকা গলবিল, মুখ গলবিল (টনসিল সহ) এবং স্বরযন্ত্রের উপরের অংশ।

  • টনসিল: গলার ভেতরের দিকে অবস্থিত দুটি গ্রন্থি।

  • স্বরযন্ত্র (Larynx): এটি “ভয়েস বক্স” নামেও পরিচিত, যা কথা বলতে সাহায্য করে।

  • নাক ও সাইনাস: নাক এবং নাকের আশেপাশে অবস্থিত বায়ুপুর্ণ গহ্বর।

  • লালাগ্রন্থি: মুখ ও গলার আশেপাশে অবস্থিত লালা উৎপাদনকারী গ্রন্থি।

সাধারণ লক্ষণ

সব গলা ব্যথা বা মুখের ঘা ক্যান্সার নয়, তবে যদি নিম্নলিখিত লক্ষণগুলো দীর্ঘদিন ধরে থাকে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি:

  • মুখে ঘা যা ভালো হয় না: মুখে, জিহ্বায় বা মাড়িতে এমন কোনো ঘা যা ২-৩ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে আছে এবং ভালো হচ্ছে না।

  • গলায় বা ঘাড়ে গুটি: গলায় বা ঘাড়ে কোনো নতুন পিণ্ড বা গুটি যা ব্যথা করে না এবং ক্রমশ বড় হচ্ছে।

  • গিলতে কষ্ট (Dysphagia): খাবার বা পানি গিলতে সমস্যা বা ব্যথা হওয়া।

  • কণ্ঠস্বর ভেঙে যাওয়া (Hoarseness): ২-৩ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন বা ভেঙে যাওয়া।

  • দীর্ঘদিন গলা ব্যথা: গলায় এমন ব্যথা যা সাধারণ চিকিৎসার পরেও ভালো হচ্ছে না।

  • মুখে রক্তপাত: মুখ থেকে unexplained রক্তপাত।

  • মুখ খুলতে কষ্ট: মুখ সম্পূর্ণরূপে খুলতে বা চিবোতে অসুবিধা।

  • ওজন কমে যাওয়া: কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ করে ওজন কমে যাওয়া।

  • কানে ব্যথা: এক কানে ক্রমাগত ব্যথা হওয়া, বিশেষ করে যদি গলার সমস্যার সাথে থাকে।

মনে রাখবেন, এই লক্ষণগুলো অন্যান্য সাধারণ রোগের কারণেও হতে পারে। তবে, যদি এর কোনোটি ২-৩ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে থাকে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

কেন হয় / ঝুঁকির কারণ

হেড অ্যান্ড নেক ক্যান্সারের প্রধান কারণগুলো নিচে সহজ ভাষায় তুলে ধরা হলো:

  • ধূমপান: সিগারেট, বিড়ি, চুরুট সহ সব ধরনের ধূমপান হেড অ্যান্ড নেক ক্যান্সারের সবচেয়ে বড় কারণ।

  • তামাক ব্যবহার: জর্দা, গুল, সাদাপাতা, খৈনি সহ সব ধরনের ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহার মুখের ক্যান্সার এবং গলার ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেক বাড়িয়ে দেয়।

  • অ্যালকোহল: অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন মুখ এবং গলার ক্যান্সারের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। ধূমপান ও অ্যালকোহল একসাথে সেবন করলে ঝুঁকি অনেক গুণ বেড়ে যায়।

  • HPV সংক্রমণ: হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (HPV) নামক ভাইরাসের কিছু নির্দিষ্ট স্ট্রেন কিছু ধরণের গলা (বিশেষ করে টনসিল এবং জিহ্বার পেছনের অংশ) ক্যান্সারের কারণ হতে পারে।

  • মুখের অস্বাস্থ্যকর পরিচর্যা: নিয়মিত দাঁত পরিষ্কার না করা, মুখের ভেতরে কোনো ধারালো দাঁত বা কৃত্রিম দাঁতের কারণে দীর্ঘদিনের অস্বস্তি বা ঘা থেকে ক্যান্সার হতে পারে।

  • অতিরিক্ত ঝাল/গরম খাবার: দীর্ঘমেয়াদী অতিরিক্ত ঝাল বা গরম খাবার সেবনের ফলে মুখের ভেতরে এক ধরণের অস্বস্তি তৈরি হতে পারে, যা ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

  • পুষ্টিহীনতা: ভিটামিন এ, বি এবং আয়রনের অভাবও ঝুঁকির কারণ হতে পারে।

  • দীর্ঘদিন জ্বালাতন (Chronic Irritation): মুখের ভেতরে যেকোনো ধরনের দীর্ঘমেয়াদী জ্বালাতন, যেমন ধারালো দাঁতের কোণ বা ভাঙা ডেন্টার, ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

HPV ও হেড অ্যান্ড নেক ক্যান্সার

HPV বা হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস একটি সাধারণ ভাইরাস, যা ত্বকের সংস্পর্শে ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণত, HPV যৌনাঙ্গের আশেপাশে warts বা আঁচিলের কারণ। তবে, কিছু নির্দিষ্ট ধরনের HPV (যেমন HPV-16) মুখ ও গলার ক্যান্সারের সাথে সম্পর্কিত।

কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে, কিছু সংখ্যক থ্রোট ক্যান্সার (বিশেষ করে টনসিল এবং জিহ্বার পেছনের অংশে) HPV সংক্রমণের কারণে হতে পারে। এই ধরণের ক্যান্সার সাধারণত ধূমপান বা অ্যালকোহলজনিত ক্যান্সারের চেয়ে ভিন্নভাবে আচরণ করে এবং প্রায়শই চিকিৎসার প্রতি ভালো সাড়া দেয়।

কীভাবে পরীক্ষা করা হয়

হেড অ্যান্ড নেক ক্যান্সার নির্ণয়ের জন্য বিভিন্ন পরীক্ষা করা হয়। এই পরীক্ষাগুলো ক্যান্সার নিশ্চিত করতে এবং এটি কতটা ছড়িয়েছে তা জানতে সাহায্য করে।

  • শারীরিক পরীক্ষা (Physical Examination): চিকিৎসক মুখ, গলা ও ঘাড় পরীক্ষা করে কোনো অস্বাভাবিক পিণ্ড বা ঘা আছে কিনা তা দেখেন।

  • এন্ডোস্কপি (Endoscopy): একটি পাতলা, নমনীয় টিউবের সাথে সংযুক্ত ক্যামেরা (এন্ডোস্কোপ) ব্যবহার করে গলার ভেতরের অংশ পরীক্ষা করা হয়। এটি অস্বাভাবিক এলাকা দেখতে সাহায্য করে।

  • বায়োপসি (Biopsy): সন্দেহজনক এলাকা থেকে একটি ছোট টিস্যুর নমুনা নিয়ে মাইক্রোস্কোপের নিচে পরীক্ষা করা হয়। এটি ক্যান্সার নিশ্চিত করার একমাত্র উপায়।

  • সিটি স্ক্যান (CT Scan): এক্স-রে এবং কম্পিউটারের সাহায্যে শরীরের ভেতরের অংশের বিস্তারিত ছবি তোলা হয়। এটি ক্যান্সারের আকার এবং এটি কতটা ছড়িয়েছে তা দেখতে সাহায্য করে।

  • এমআরআই (MRI): শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র এবং রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে শরীরের নরম টিস্যুগুলোর বিস্তারিত ছবি তৈরি করা হয়।

  • পিইটি স্ক্যান (PET Scan): এই স্ক্যান ক্যান্সার কোষ শনাক্ত করতে সাহায্য করে, যা শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়েছে কিনা তা দেখতে পাওয়া যায়।                       

চিকিৎসা

হেড অ্যান্ড নেক ক্যান্সারের আধুনিক চিকিৎসায় বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, যা রোগের স্টেজ, ধরন এবং রোগীর সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উপর নির্ভর করে।

  • অপারেশন (Surgery): ক্যান্সার আক্রান্ত টিস্যু বা টিউমার সার্জারি করে অপসারণ করা হয়।

  • রেডিওথেরাপি (Radiotherapy): উচ্চ শক্তির বিকিরণ ব্যবহার করে ক্যান্সার কোষগুলোকে মেরে ফেলা হয় বা তাদের বৃদ্ধি রোধ করা হয়।

  • কেমোথেরাপি (Chemotherapy): ক্যান্সার কোষগুলোকে ধ্বংস করার জন্য ওষুধ ব্যবহার করা হয়। এটি ইনজেকশন বা পিল আকারে দেওয়া যেতে পারে।

  • টার্গেটেড থেরাপি (Targeted Therapy): এই চিকিৎসা ক্যান্সার কোষগুলোর নির্দিষ্ট দুর্বলতাগুলোকে লক্ষ্য করে কাজ করে, যা সুস্থ কোষগুলোর ক্ষতি কমায়।

  • ইমিউনোথেরাপি (Immunotherapy): এই চিকিৎসা রোগীর নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে ক্যান্সার কোষগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে।

  • পুষ্টি সহায়তা (Nutritional Support): ক্যান্সারের চিকিৎসার সময় বা পরে রোগীর পুষ্টি নিশ্চিত করা খুবই জরুরি। প্রয়োজনে বিশেষ খাবার বা ফিডিং টিউবের মাধ্যমে পুষ্টি সরবরাহ করা হয়।

  • স্পিচ অ্যান্ড সওয়ালোইং রিহ্যাবিলিটেশন (Speech and Swallowing Rehabilitation): গলা বা মুখের ক্যান্সারের চিকিৎসার পর কথা বলা বা গিলতে সমস্যা হলে ফিজিওথেরাপিস্ট বা স্পিচ থেরাপিস্ট সহায়তা করেন।

  • প্যালিয়েটিভ কেয়ার (Palliative Care): এর উদ্দেশ্য হলো রোগের লক্ষণ এবং চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো নিয়ন্ত্রণ করে রোগীর জীবনযাত্রার মান উন্নত করা।

রেডিওথেরাপি কেন গুরুত্বপূর্ণ?

হেড অ্যান্ড নেক ক্যান্সারের চিকিৎসায় রেডিওথেরাপি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি প্রায়শই অপারেশন ছাড়াই ক্যান্সার নিরাময় করতে পারে, অথবা অপারেশনের আগে টিউমার ছোট করতে বা অপারেশনের পর অবশিষ্ট ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করতে ব্যবহার করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে, রেডিওথেরাপির মাধ্যমে অঙ্গ সংরক্ষণ (organ preservation) সম্ভব হয়, অর্থাৎ মুখ, জিহ্বা বা স্বরযন্ত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো অপসারণ না করেই চিকিৎসা করা যায়, যা রোগীর জীবনযাত্রার মান বজায় রাখতে সাহায্য করে।

চিকিৎসার সময় পুষ্টির গুরুত্ব

ক্যান্সারের চিকিৎসা যেমন রেডিওথেরাপি বা কেমোথেরাপির সময় রোগীদের খেতে কষ্ট হতে পারে, মুখে ঘা হতে পারে বা গিলতে অসুবিধা হতে পারে। এর ফলে ওজন কমে যাওয়া এবং পুষ্টিহীনতার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

  • খেতে কষ্ট হলে: যদি রোগীর গিলতে কষ্ট হয়, তাহলে তরল (liquid) বা নরম (soft) খাবার যেমন স্যুপ, জুস, দই, খিচুড়ি ইত্যাদি খেতে উৎসাহিত করা হয়।

  • নিউট্রিশন সাপোর্ট: প্রয়োজনে, চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদ বিশেষ সাপ্লিমেন্ট বা এমনকি ফিডিং টিউবের (Feeding Tube) মাধ্যমে পুষ্টি সরবরাহের পরামর্শ দিতে পারেন। সঠিক পুষ্টি গ্রহণ করলে শরীর চিকিৎসার চাপ সহ্য করতে পারে এবং দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে।

রোগ সম্পর্কে প্রচলিত ভুল ধারণা

❌ “মুখের ঘা মানেই সাধারণ সমস্যা”

✅ বাস্তবতা: বেশিরভাগ মুখের ঘা সাধারণ হলেও, যদি কোনো ঘা ২-৩ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে থাকে এবং ভালো না হয়, তাহলে তা মুখের ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে।


❌ “বায়োপসি করলে cancer ছড়িয়ে যায়”

✅ বাস্তবতা: এটি একটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। বায়োপসি ক্যান্সার নির্ণয়ের একমাত্র নিশ্চিত উপায় এবং এর ফলে ক্যান্সার ছড়ায় না। বরং সঠিক বায়োপসি না হলে ভুল চিকিৎসা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।


❌ “রেডিওথেরাপি খুব ভয়ংকর”

✅ বাস্তবতা: রেডিওথেরাপির কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে, তবে আধুনিক রেডিওথেরাপি কৌশলগুলো সুস্থ টিস্যুর ক্ষতি কমিয়ে ক্যান্সারে সুনির্দিষ্টভাবে আঘাত হানে। এটি একটি কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি।


❌ “গলায় গুটি মানেই cancer”

✅ বাস্তবতা: গলায় গুটি অনেক সাধারণ কারণেও হতে পারে, যেমন ইনফেকশন। তবে, যদি কোনো গুটি বড় হতে থাকে, শক্ত হয় বা দীর্ঘদিন ধরে থাকে, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।


❌ “ক্যান্সার হলে কথা বলা বন্ধ হয়ে যায়”

✅ বাস্তবতা: স্বরযন্ত্রের ক্যান্সারে স্বর পরিবর্তন হতে পারে বা কথা বলতে সমস্যা হতে পারে, কিন্তু সব ক্ষেত্রে কথা বলা বন্ধ হয়ে যায় না। আধুনিক চিকিৎসায় অনেক সময় কণ্ঠস্বর রক্ষা করা সম্ভব হয়।

প্রতিরোধ ও সচেতনতা

প্রতিরোধই সবচেয়ে ভালো চিকিৎসা। হেড অ্যান্ড নেক ক্যান্সার প্রতিরোধে কিছু সহজ পদক্ষেপ অনুসরণ করা যেতে পারে:

  • ধূমপান ও তামাক বন্ধ: সব ধরনের ধূমপান এবং জর্দা, গুল, সাদাপাতা সহ তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে পরিহার করুন।

  • মুখের পরিচ্ছন্নতা: নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করুন এবং মুখ পরিষ্কার রাখুন। দাঁতের ধারালো অংশ বা অস্বাস্থ্যকর কৃত্রিম দাঁত থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
  • HPV সচেতনতা: HPV ভ্যাকসিন নিয়ে সচেতন থাকুন, যা কিছু ধরণের ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে
  • নিয়মিত পরীক্ষা: যাদের ধূমপান বা তামাক ব্যবহারের ইতিহাস আছে, তাদের নিয়মিত ডেন্টাল চেকআপ বা চিকিৎসকের কাছে মুখের ভেতরের অংশ পরীক্ষা করানো উচিত।

  • দীর্ঘদিনের মুখের ঘা অবহেলা না করা: মুখে, জিহ্বায় বা মাড়িতে কোনো ঘা ২-৩ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

কখন দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত

নিম্নলিখিত লক্ষণগুলো দেখা গেলে কোনো রকম দেরি না করে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি:

  • ২-৩ সপ্তাহের বেশি মুখের ঘা: মুখের ভেতরে, জিহ্বায় বা ঠোঁটে এমন কোনো ঘা যা ২-৩ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে আছে এবং ভালো হচ্ছে না।

  • দীর্ঘদিন কণ্ঠ ভাঙা: ২-৩ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন বা ভেঙে যাওয়া।

  • গলায় গুটি: গলায় বা ঘাড়ে কোনো নতুন পিণ্ড বা গুটি যা ক্রমশ বড় হচ্ছে।

  • গিলতে কষ্ট: খাবার বা পানি গিলতে অসুবিধা বা ব্যথা হওয়া।

  • অকারণে ওজন কমা: কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ করে ওজন কমে যাওয়া।

আমার ভূমিকা

হেড অ্যান্ড নেক ক্যান্সারের সুনির্দিষ্ট এবং কার্যকর চিকিৎসায় আমি গভীরভাবে নিয়োজিত। এই রোগের নির্ভুল নির্ণয় (diagnosis) এবং স্টেজ নির্ধারণের (stage evaluation) পাশাপাশি, আমি রেডিওথেরাপি প্ল্যানিংয়ে বিশেষ দক্ষতা রাখি। প্রতিটি রোগীর রোগের স্টেজ, বায়োপসি রিপোর্ট এবং শারীরিক অবস্থার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণের ভিত্তিতে আমি ব্যক্তিগতভাবে সবচেয়ে কার্যকর রেডিওথেরাপি পরিকল্পনা তৈরি করি। এছাড়াও, কেমোথেরাপি (chemotherapy), টার্গেটেড থেরাপি (targeted therapy), ইমিউনোথেরাপি (immunotherapy) সহ অন্যান্য আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি এবং পুষ্টি সহায়তা (nutritional support) ও সহায়ক যত্নের (supportive care) মাধ্যমে রোগীদের একটি সামগ্রিক চিকিৎসা পরিষেবা দিতে আমি বদ্ধপরিকর। আমার লক্ষ্য হলো অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে রোগীদের জন্য সর্বোত্তম ফলাফলের পথ সুগম করা।

শেষকথা

হেড অ্যান্ড নেক ক্যান্সার একটি গুরুতর রোগ হলেও, প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে এবং সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করলে এর ফল অনেক ভালো হতে পারে। মুখের ঘা বা গলার সমস্যাকে দীর্ঘদিন অবহেলা করা উচিত নয়। ধূমপান এবং তামাক পরিহার করা এই রোগ প্রতিরোধের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মনে রাখবেন, সচেতনতা এবং সময়মতো চিকিৎসা আপনার জীবন রক্ষা করতে পারে। নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নশীল হোন এবং কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

## পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করুন

আপনার বা আপনার পরিবারের কারো ক্যান্সার চিকিৎসা নিয়ে প্রশ্ন থাকলে দেরি না করে যোগাযোগ করুন।